আইসিসি ঠেকাতে ট্রাম্পের লক্ষ্য নেতানিয়াহু রক্ষ

 প্রকাশ: ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

আইসিসি ঠেকাতে ট্রাম্পের লক্ষ্য নেতানিয়াহু রক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:.

ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)বিরোধী প্রচারণার উদ্দেশ্য নিজেকে রক্ষা করা নয়, বরং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও অন্যদের বিচারের ঝুঁকি থেকে বাঁচানো-এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ট্রাম্প এ কথা বলেন। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর পাঁচটি দেশ আদালতটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, “তারা যে আমার পেছনে লেগেছে, এমন কোনো তথ্য নেই।” তবে ভবিষ্যতে এমন কিছু ঘটতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “রুবিও আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন না। তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আরও অনেক মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, যাদের এভাবে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়।”

জবাবে রুবিও বলেন, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যরা। তার দাবি, যুদ্ধের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য কয়েক বছর পরও তারা বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার জন্য গঠিত হয়। আদালতটি কোনো দেশের বিচারব্যবস্থা এসব অপরাধের বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে নিজেদের এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির সদস্য ছিল না। তবে আদালতের বিধি অনুযায়ী, সদস্য দেশের ভূখণ্ডে অ-সদস্য দেশের নাগরিকদের সংঘটিত গুরুতর অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা আইসিসির রয়েছে।

ট্রাম্পের আইসিসিবিরোধী অবস্থান নতুন নয়। তার প্রথম মেয়াদেও আদালটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর এবং আইসিসি গাজা সংঘাত নিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

চলতি মাসের শুরুতে রুবিও নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আদালটির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি এবং অভিবাসী বহিষ্কার বা মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন হামলার মতো বিষয় নিয়ে আইসিসির সম্ভাব্য পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তারা অন্য দেশগুলোকে আইসিসি থেকে সরে যেতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি আদালটির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে আইসিসির বিচারক ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অধিকার সংগঠন আদালতকে দুর্বল করার এই প্রচেষ্টার বিরোধিতা করছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করতে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement