কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণ এখন পর্যন্ত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৩২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১ হাজার ৫৫৬ জন।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান কার্ল স্কাউ চলতি সপ্তাহে বলেছেন, এটি এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা মহামারি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
আফ্রিকার শীর্ষ জনস্বাস্থ্য সংস্থা আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব শুরুর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আগের যেকোনো ইবোলা সংক্রমণের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি মানুষ মারা গেছে।
এবারের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাসের বিরল ‘বান্দিবুগিও’ ধরন থেকে, যার অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা এখনো নেই।
পূর্ব কঙ্গোর দুর্গম এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সেখানে সক্রিয় কয়েক ডজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাও চাপের মুখে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবের চেয়ে বড় ছিল শুধু ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারি। ওই সময় গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ২৮ হাজার ৬১৬ জন আক্রান্ত এবং ১১ হাজার ৩১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুনিয়ার দাতব্য সংস্থা কারিতাসের জরুরি বিভাগের প্রধান অ্যাঞ্জেল গ্যাপিও বলেন, জনসচেতনতা কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, “রোগটি এখন কমিউনিটির মধ্যে স্থায়ী হয়ে গেছে। মানুষ এখনো চিকিৎসার জন্য ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসকদের কাছে যাচ্ছে, ফলে সংক্রমণের ধারা অব্যাহত রয়েছে।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা চার গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। নজরদারি কার্যক্রমে যানবাহনের সংকট, জনবল ঘাটতি এবং স্থানীয় মানুষের অবিশ্বাস বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, ইবোলা নিয়ন্ত্রণে তাদের ১৪০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে, যা আগের হিসাবের তিন গুণ। তবে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত কঙ্গোর প্রতিরোধ পরিকল্পনার জন্য ঘোষিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, যা প্রয়োজনীয় ২৪ কোটি ২৪ লাখ ডলারের চেয়ে কম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও সহায়তা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। কঙ্গোতে চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনাকারী সামারিটান’স পার্স জানিয়েছে, কোয়ারেন্টিন আদেশের কারণে তাদের মার্কিন কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল কার্যক্রম সীমিত করতে হবে।