জলবায়ু ও প্রকৃতি রক্ষায় গবেষণার সঙ্গে নীতির যোগসূত্র চান বিশেষজ্ঞরা
খুলনা ব্যুরো :
জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় ও প্রতিবেশব্যবস্থার অবক্ষয় মোকাবিলায় বিজ্ঞান ও নীতির মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) অনুষ্ঠিত ‘ডিএএডি আর্লি ক্যারিয়ার রিসার্চ সিম্পোজিয়াম ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি ডিসিপ্লিনের লেকচার থিয়েটারে ‘ব্রিজিং সায়েন্স অ্যান্ড পলিসি ইন ফরেস্টস, বায়োডাইভারসিটি অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ প্রতিপাদ্যে এ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় ও প্রতিবেশব্যবস্থার অবক্ষয় পরস্পর সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞান ও নীতির মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে। গবেষণার মূল্য শুধু নতুন একাডেমিক জ্ঞান সৃষ্টিতে নয়, বাস্তব সমস্যা সমাধান ও মানুষের কল্যাণে তার প্রয়োগের মধ্যেও নিহিত।
তিনি তরুণ গবেষকদের আন্তঃবিষয়ক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ডিএএডির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সিম্পোজিয়াম দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্র তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বন, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের অবক্ষয় ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শুধু একাডেমিক জ্ঞান সৃষ্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব সমস্যা মোকাবিলা ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।
তরুণ গবেষকদের গবেষণা উপস্থাপন, গঠনমূলক মতামত গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিকীকরণ, আন্তঃবিষয়ক গবেষণা ও সামাজিক প্রভাবসম্পন্ন গবেষণাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান উপাচার্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডিএএডির রিসার্চ অ্যাম্বাসেডর অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত। তিনি বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ গবেষকেরা জার্মানির গবেষণাব্যবস্থা, গবেষণার সুযোগ ও বিভিন্ন গবেষণাপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পাবেন। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন ধারণা ও ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও জার্মান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন খুলনা চ্যাপ্টারের চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং দ্য অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশিক উর রহমান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন ও ডিএএডি বাংলাদেশের রিজিওনাল অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান সুমন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে টেকনিক্যাল সেশনে বন, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গবেষণা, বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান এবং নীতিনির্ধারণের মধ্যে সংযোগ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা উপস্থাপন করা হয়।
সিম্পোজিয়ামে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা অংশ নেন।
ডিএএডির অর্থায়নে এবং ডিএএডির রিসার্চ অ্যাম্বাসেডর অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাতের তত্ত্বাবধানে এ সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়।