খুলনার ক্রীড়াঙ্গনে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি, মুখোমুখি দুই প্যানেল
খুলনা ব্যুরো
খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সরব হয়ে উঠেছে জেলার ক্রীড়াঙ্গন। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, মাঠের সংকট, লিগ আয়োজনের ঘাটতি ও সংগঠকদের নানা অভিযোগকে সামনে রেখে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে দুটি প্যানেল। বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে দুই প্যানেল নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রার্থীদের পরিচয় তুলে ধরে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। নির্বাচনে ২২২ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টায় ‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ’ ১৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’ তাদের প্যানেল ঘোষণা করে। দুই পক্ষের বক্তব্যেই খুলনার ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি উঠে এসেছে। তবে সমস্যা চিহ্নিত করা ও তা সমাধানের পদ্ধতিতে রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা।
‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ’-এর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোল্লা খায়রুল ইসলাম বলেন, দক্ষ, অভিজ্ঞ, প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক ক্রীড়াবিদদের সমন্বয়ে তাঁদের প্যানেল গঠন করা হয়েছে। খুলনাকে দেশজুড়ে ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে পরিচিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
১৪ দফা ইশতেহারে জেলা স্টেডিয়ামের পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন, বন্ধ থাকা খেলাধুলা চালু করা, নিয়মিত লিগ আয়োজন ও তরুণ খেলোয়াড় তৈরিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি স্টেডিয়ামে আধুনিক সুইমিংপুল ও জিম নির্মাণ, স্বচ্ছ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এবং নিয়মিত প্রমিলা ক্রিকেট লিগ আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। সার্কিট হাউস মাঠসহ জেলার অন্যান্য মাঠ খেলার উপযোগী করার পাশাপাশি জেলা স্টেডিয়ামকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভেন্যুতে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্যানেলটি।
এই প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে মোল্লা খায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে শেখ হেমায়েত উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আলহাজ বেলাল হোসেন ও কে এম আশরাফুল আলম (নান্নু), কোষাধ্যক্ষ পদে হাসান জহীর মুকুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহসভাপতি পদে রয়েছেন এস এম মোয়াজ্জেম রশীদী দোজা, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, মো. জুলফিকার আলী খান ও শাহ আসিফ হোসেন (রিংকু)।
অন্যদিকে ‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’-এর ‘রেজভী-ফয়েজ-মামুন-জাহাঙ্গীর-পিলু-আবুল’ প্যানেল খুলনার ক্রীড়াঙ্গনে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে।
প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও খুলনা বিভাগীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক প্রধান কোচ ইমতিয়াজ হোসেন পিলু বলেন, খুলনার ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, মাঠের সংকট ও অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং সাধারণ ক্লাবগুলোর অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁদের প্যানেল গঠন করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের ক্লাবভিত্তিক লবি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে খুলনার ক্রীড়াঙ্গন স্থবির হয়ে পড়েছে। নিয়মিত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ না হওয়ায় নতুন খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগ কমেছে।
ইমতিয়াজ হোসেন পিলুর দাবি, সর্বশেষ ২০২১ সালে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আর সেটি হয়নি। একই সঙ্গে ভোটারদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং স্বল্পসংখ্যক ক্লাবের হাতে ভোট নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এই প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে ইমতিয়াজ হোসেন পিলু, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবুল হোসেন আবুল, যুগ্ম সম্পাদক পদে মো. খাইরুল আহসান (মানিক) এবং কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহসভাপতি পদে রয়েছেন মো. হাসান মেহেদী রেজভী, মজিবর রহমান ফয়েজ, শরীফ মো. বদরুজ্জামান (মামুন) ও শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন।
নির্বাহী সদস্য পদে রয়েছেন মিলজার হোসেন, এস এম আজাদ হোসেন জুয়েল, মো. জোবায়ের ইসলাম ও মনিরুজ্জামান মহাসীন।
নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের পরিবেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে কিছু দাবি জানিয়েছে ‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’। তাদের দাবি, ভোটাররা যেন স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের বুথের ভেতরে কোনো প্রার্থী যাতে প্রবেশ করতে না পারেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুই প্যানেলের ইশতেহার ও বক্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন অগ্রাধিকার থাকলেও একটি বিষয়ে মিল রয়েছে—খুলনার ক্রীড়াঙ্গনে গতি ফেরানো। এখন ভোটারদের রায়ে কোন প্যানেল দায়িত্ব পাচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করবে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটা হয়।
শনিবারের ভোটে ২২২ জন ভোটার সেই সিদ্ধান্ত দেবেন।