নাফ নদীর ‘রূপালি দানব’: এক জালেই ৩৫ কেজি কোরাল, বিক্রি ৪২ হাজারে
নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ | ৮ মে, ২০২৬
টেকনাফের নাফ নদী যেন এক জাদুর ঝুলি খুলে বসল জেলে নুরুল আমিনের সামনে। বৃহস্পতিবার সকালে জাল টেনে যখন তিনি পাড়ে তুলছিলেন, তখন রূপালি রঙের ঝিলিক দেখে চারপাশ থেকে ভিড় জমান স্থানীয়রা। জালে উঠে এসেছে ছয়টি বিশাল কোরাল মাছ, যার একটির ওজনই ২৩ কেজি! সব মিলিয়ে ৩৫ কেজি ওজনের এই মাছগুলো শেষ পর্যন্ত ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
যেভাবে ধরা পড়ল সেই ‘বিশাল’ কোরাল
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট সংলগ্ন নাফ নদীতে প্রতিদিনের মতোই জাল ফেলেছিলেন নুরুল আমিন মাঝি। সকাল ৯টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর এলাকায় জাল ফেলার দুই ঘণ্টা পর শুরু হয় রোমাঞ্চ। জাল তোলার সময় নুরুল আমিন বুঝতে পারেন, আজ সাধারণ কোনো মাছ আটেনি।
প্রথমে উঠে আসে ২৩ কেজি ওজনের সেই বিশালকার কোরালটি। এরপর একে একে আরও পাঁচটি ছোট কোরাল মাছ জালের জালে ধরা দেয়। নুরুল আমিনের চোখে তখন সফলতার আনন্দ। তিনি জানান, মাছগুলো জেটিঘাটে আনার পর সে এক এলাহি কাণ্ড। পর্যটক আর স্থানীয় মানুষ এই ‘দানব’ মাছ দেখতে হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন।
দাম ও ক্রেতা
ঘাটে মাছগুলো আনার পরপরই কেনাবেচার তোড়জোড় শুরু হয়। চট্টগ্রামের শাহপরীর গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইয়াহিয়া ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে মাছগুলো কেনার প্রস্তাব দেন। শেষ পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার টাকায় নুরুল আমিন মাছগুলো তার কাছে বিক্রি করেন।
বিশেষজ্ঞের অভিমত: কেন বাড়ছে নাফ নদীর মাছ?
টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক জানান, নাফ নদীতে প্রায়ই বড় বড় কোরাল ধরা পড়ছে এবং এখানকার মাছের স্বাদও অতুলনীয়। এই বিশাল মাছগুলো ধরা পড়ার পেছনে তিনি কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন:
নিষেধাজ্ঞার সুফল: দীর্ঘদিন রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ ছিল।
প্রজনন সুরক্ষা: প্রজনন মৌসুমে সরকারি কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা জেলেরা মেনে চলায় মাছগুলো বড় হওয়ার পর্যাপ্ত সময় ও পরিবেশ পেয়েছে।
দিনাজপুর থেকে বেড়াতে আসা এক দম্পতি জানান, তারা সাধারণত এই মাছকে ‘ভেটকি’ নামে চেনেন। সরাসরি এত বড় কোরাল দেখার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য প্রথম। নাফ নদীর এই রূপালি সম্পদ এখন স্থানীয় জেলেদের মুখে হাসির পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতার নতুন আশাও জাগাচ্ছে।