টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে আড়াই হাজার হেক্টর বোরো ধান নষ্ট, দুশ্চিন্তায় কৃষক

 প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন   |   খুলনা

টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে আড়াই হাজার হেক্টর বোরো ধান নষ্ট, দুশ্চিন্তায় কৃষক

খুলনা ব্যুরো :

টানা তিন দিনের বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিতে বাগেরহাটে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো ধান। জেলার প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাগেরহাটে ৭৩ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি ধান এখনো মাঠে থাকায় টানা বৃষ্টি, রোদহীন আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে।

মৌসুমের শেষ সময়ে সোনালি ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টি সেই স্বপ্নে ফেলেছে অনিশ্চয়তার ছায়া। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাটা ও অর্ধপাকা ধান মাঠেই পড়ে আছে। কোথাও জমে থাকা পানিতে ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও রোদের অভাবে কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে অনেক কৃষক আগাম ধান কাটা শুরু করলেও অধিকাংশই তা শেষ করতে পারেননি। ফলে একদিকে মাঠে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে কাটা ধান শুকাতে না পারায় বাড়ছে দুর্ভোগ। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কচুয়া উপজেলার কৃষক মাহফুজ বলেন, চার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে অর্ধেকের বেশি ধান জমিতেই পড়ে রয়েছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।

নজরুল নামের আরেক কৃষক জানান, চারজন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটলেও রোদ না থাকায় তা শুকাতে পারেননি। টানা বৃষ্টিতে নিচু জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, কাটা ধান জমিতে রাখা ছিল। সকালে বাড়িতে আনার পরিকল্পনা থাকলেও বৃষ্টিতে বেশিরভাগ ধান পানির নিচে চলে গেছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে অন্তত ১০ শতাংশ ধান ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দ্রুত রোদ উঠলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, জেলায় প্রায় ২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ১২ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টন বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা পুনরায় চাষাবাদে ফিরতে পারেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement