সুন্দরবন খোলার আগের দিন ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আশা
খুলনা ব্যুরো :
তিন মাস বন্ধ থাকার পর আজ মঙ্গলবার সুন্দরবন আবার খুলছে। তার ঠিক আগের দিন গতকাল সোমবার সুন্দরবনে সক্রিয় চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য একসঙ্গে র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর, আনারুল, আফজাল ওরফে দুলাভাই এবং আফতাব বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।
র্যাব বলছে, সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে এই আত্মসমর্পণ একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এর ফলে বননির্ভর জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার র্যাব-৬, খুলনা সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৫২ জনের আত্মসমর্পণের বিষয়টি জানানো হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন রয়েছেন।
সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। মাছ ধরা, মধু ও গোলপাতা সংগ্রহসহ নানা কাজে তাঁদের বনে যেতে হয়। একসময় জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও হামলার কারণে এসব বনজীবীর স্বাভাবিক জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো।
র্যাব জানায়, সুন্দরবনে দস্যুতা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি দস্যুদের জন্য বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধজীবনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তাঁদের আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
র্যাব-৬-এর ভাষ্য, একসঙ্গে চারটি বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণের ফলে এসব বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক তৎপরতা কমবে। এতে সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বনজীবীদের নিরাপদে চলাচল ও জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ তৈরি হবে।
তবে আত্মসমর্পণের পর তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও র্যাবের বক্তব্য রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যথাসময়ে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় বনে প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। এবার ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস পর্যটক ও বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে নির্ধারিত বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সুন্দরবন খোলার ঠিক আগের দিন ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণকে তাই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, দস্যুদের তৎপরতা কমলে বনে যাতায়াতকারী মানুষের নিরাপত্তা বাড়বে। পাশাপাশি সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, মাছ ধরা, মধু ও অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও নিরাপদ পরিবেশে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
র্যাব-৬ জানিয়েছে, সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ বন্ধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।