বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, খুলনা সহ চার বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টির শঙ্কা
খুলনা ব্যুরো :
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার ১৭ আগষ্ট আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারি বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সকাল আটটা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় এসব বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সামুদ্রিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।এর প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের সম্ভাবনার কারণে গভীর সাগরে না যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ সময় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী দুই দিন দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও নৌযান চলাচলে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।