খুকৃবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত: ‘দক্ষ, মানবিক ও উদ্ভাবনী কৃষিবিদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে’—উপাচার্য

 প্রকাশ: ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৪ অপরাহ্ন   |   খুলনা

খুকৃবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত:    ‘দক্ষ, মানবিক ও উদ্ভাবনী কৃষিবিদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে’—উপাচার্য

মাসুদ আল হাসান ,খুলনা :

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার।

অনুষ্ঠানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান, রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল ইসলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিআই মোটরস, লাল তীর ও বায়ার ক্রপ সায়েন্সের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কৃষিবিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিভিন্ন অনুষদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় দুই নবীন শিক্ষার্থী ও ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। কৃষির বহুমাত্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও এগিয়ে নিতে হবে। তিনি জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন, কৃষি কার্ড, খাল খনন, শিক্ষার ডিজিটালাইজেশন এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে আলোকপাত করেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিয়ে জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। শিক্ষা, গবেষণা ও ল্যাব সুবিধার উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রফেসর ড. রেজাউল করিম বলেন, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সময়। সময়কে কোনোভাবেই হেলাফেলা করে নষ্ট করা যাবে না। সময়ের যথাযথ ব্যবহার করে জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। টেকসই উন্নয়নে কৃষিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত ও অভিনন্দন জানান।

তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণআন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু ও টেকসই করতে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগতি ও সৃজনশীলতাকে ধারণ করে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তোমরা হবে মানবিক, দক্ষ, সৎ, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদ।”

দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দারিদ্র্য বিমোচনে নবীন কৃষিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এসিআই মোটরস, লাল তীর ও বায়ার ক্রপ সায়েন্সের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতার ফলে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে দেশের কৃষি ও জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement