সাড়ে ২২ কেজি ওজনের ধাতিনা ভোল বিক্রি হলো সাড়ে ৩ লাখ টাকায়

 প্রকাশ: ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ অপরাহ্ন   |   খুলনা

সাড়ে ২২ কেজি ওজনের ধাতিনা ভোল বিক্রি হলো সাড়ে ৩ লাখ টাকায়

খুলনা ব্যুরো :

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়া সাড়ে ২২ কেজি ওজনের একটি ধাতিনা ভোল মাছ ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের কে বি বাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মিরাজ হাওলাদারের আড়তে উন্মুক্ত নিলামে মাছটি বিক্রি হয়।

মাছ ব্যবসায়ী হারুন মীর মাছটি কিনেছেন। প্রতি মণ ৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা হিসাবে মাছটির কেজিপ্রতি দাম পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৭৭৭ টাকা।

জেলেরা জানান, গত ১১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বিশাল আকারের ধাতিনা ভোলটি ধরা পড়ে। বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের জেলে ইলিয়াছ হোসেনের মাছ ধরার ট্রলারে মাছটি ধরা পড়ে।

ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘সাগরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ তেমন ধরা পড়ছিল না। বাড়ি ফেরার আগে শেষবারের মতো সাগরে জাল ফেলি। রাতে জাল টানার সময় ধাতিনা ভোলটি পাওয়া যায়। মাছটির দাম ভালো হওয়ায় আমরা খুশি।’

মাছটি কিনে হারুন মীর বলেন, প্রতি মণ ৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা হিসাবে সাড়ে ২২ কেজি মাছটির দাম ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পড়েছে। মাছটি বরফ দিয়ে বড় মোকামে নেওয়া হবে। পরে চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, ‘অনেক বছর পর সাড়ে ২২ কেজি ওজনের একটি ধাতিনা ভোল ধরা পড়েছে। ছোট জাল ব্যবহারের কারণে এ ধরনের মাছ বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ে যায়। এত বড় মাছ পাওয়ায় স্থানীয় জেলেরা আনন্দিত।’

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ধাতিনা ভোল মাছের পটকার চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চাহিদা রয়েছে। মাছের পটকা ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরিসহ চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সুতা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এ মাছের পটকার মূল্য বেশি।

স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মাঝেমধ্যে এমন বিরল ও বড় আকারের মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এসব মাছ বিক্রি করে এক রাতেই ভাগ্য বদলে যায় কোনো কোনো জেলের।

Advertisement
Advertisement
Advertisement