বিয়ের প্রলোভনে খুবি ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ নৌপরিবহন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

 প্রকাশ: ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন   |   খুলনা

বিয়ের প্রলোভনে খুবি ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ  নৌপরিবহন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

খূলনা ব‌্যু‌রো : 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এমবিএ বিভাগের এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাইম খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা পারভীন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ নাইম খান ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে আসামি করে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে নাইম খানের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নাইম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৯ জুলাই বিকেলে নাইম একটি প্রাইভেটকার নিয়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর খাদ্যগুদাম এলাকায় যান। সেখানে কথা বলার কথা বলে ওই ছাত্রীকে গাড়িতে তুলে একটি পানীয় পান করতে দেওয়া হয়। পানীয়টি পান করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে নাইমের বন্ধু হৃদয়ের বাড়িতে দেখতে পান। 

সেখানে তাকে ওষুধজাতীয় পদার্থ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, মোড়েলগঞ্জের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভর্তি ফরমে চিকিৎসকেরা ড্রাগস বা বিষপ্রয়োগের সম্ভাব্য ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেছেন। 

ভুক্তভোগী বর্তমানে শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের অভিযোগ করেছেন।

এ ছাড়া নাইমের বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রী।

 এতে তার ডান চোখ ও হাতে আঘাত লাগে বলে দাবি করেন তিনি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ নাইম খান বলেন, অপহরণ, আটকে রাখা বা অচেতন করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। 

তার দাবি, ওই ছাত্রীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় ছিল এবং তিনি স্বেচ্ছায় তার বাড়িতে এসেছিলেন। মনগড়া অভিযোগ তুলে তার ও পরিবারের সম্মানহানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মামলার বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement