সংবাদ শিরোনাম

সবুজে ঘেরা ৩ এপিবিএন ক্যাম্পাস: ‘মধুকুঞ্জ’ থেকে ‘আনন্দ সরোবর’—পরিবেশ ও মানবিক উদ্যোগে অনন্য দৃষ্টান্ত

 প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ন   |   খুলনা

সবুজে ঘেরা ৩ এপিবিএন ক্যাম্পাস: ‘মধুকুঞ্জ’ থেকে ‘আনন্দ সরোবর’—পরিবেশ ও মানবিক উদ্যোগে অনন্য দৃষ্টান্ত

মাসুদ আল হাসান ,খুলনা :

খুলনা নগরীর শিরোমণি এলাকায় অবস্থিত ৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্পাস এখন শুধু একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি, মৎস্য, সৌন্দর্যবর্ধন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের এক অনন্য উদাহরণে পরিণত হয়েছে।

৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের দেশ প্রতিবেদক (খুলনা ব্যুরো প্রধান)  ৩ এপিবিএন, খুলনা ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি এম. এম. সালাহউদ্দীনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে সূর্যমুখী, লিচু ও আমের বাগানসহ নানা ধরনের ফল, ফুল ও বনজ গাছের সমাহার। পাশাপাশি বক্সের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে মধু চাষের একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মধুকুঞ্জ’।


বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘অংকুর নার্সারি’, যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এছাড়া জলাশয় খননের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়েছে ‘রেনুকা’ নামে একটি হ্যাচারি, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন ও চাষ করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

পরিবেশ দূষণ রোধ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্প্রতি ৩ এপিবিএন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি এম. এম. সালাহউদ্দীন। এতে ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা ও সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালিত হয়।

এ সময় অধিনায়ক এম. এম. সালাহউদ্দীন বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে একটি সুস্থ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি এ কাজে এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

তার এ ব্যতিক্রমী, পরিবেশবান্ধব ও মানবিক উদ্যোগকে স্থানীয় জনগণ ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছে।

ক্যাম্পাসে আগত অতিথি এবং নামাজের অজুর সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক রিফ্রেশ রুম। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তা-সদস্যদের কর্মোদ্দীপনা বাড়াতে পুকুরের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে মনোরম ‘আনন্দ সরোবর’। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘মুক্ত মঞ্চ’, আর বাদাম গাছের ছায়ায় নির্মিত হয়েছে মনোরম বিশ্রামস্থল ‘পান্থছায়া’।


পাখিদের অবাধ বিচরণ ও খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তৈরি করা হয়েছে ‘বিহঙ্গ বিলাস’। এছাড়া পতিত জমিতে ধান, তিসি, বেগুন, সিম, হলুদসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের দুটি পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ, ভেষজ ও নানা প্রজাতির ফুলের গাছ রোপণ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এ উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসম্পৃক্ততা এবং টেকসই উন্নয়নের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement