খুলনার ১৬ সড়ক উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব
মাসুদ আল হাসান, খুলনা :
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ প্রস্তাব সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় খুলনা অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্ত ও আধুনিকায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ দিঘলিয়ার নগরঘাট-আড়ুয়া সড়ক, যা ছয় ফুট প্রশস্ত করে সার্ভিস রোডে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুলতলা-মিকসিমিল-ডুমুরিয়া সড়ক, তেরখাদা-মোল্লারহাট সড়ক এবং বটিয়াঘাটা-পাইকগাছা সড়ক উন্নয়নও এ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কও উন্নয়নের আওতায় আনা হয়েছে।
সওজ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, শুধু সেতু নির্মাণ করলেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয় না; সংযোগ সড়কেরও উন্নয়ন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নে সম্ভাব্য ব্যয়, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। অনুমোদন মিললে প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে।
তানিমুল হক বলেন, দিঘলিয়ার আড়ুয়া এলাকা শিল্পায়নের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এখানে জমির দাম তুলনামূলক কম, শ্রমিক সহজলভ্য, কাঁচামাল সংগ্রহে সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি নৌপথে দ্রুত মোংলা বন্দরে পণ্য পরিবহনের সুযোগ থাকায় রপ্তানিও সহজ হবে।
তিনি জানান, এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আতাই নদীর ওপর আড়ুয়া সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। সেতুটি নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে যশোরের নওয়াপাড়াকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চলের সম্প্রসারণ দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
সওজের এই কর্মকর্তা বলেন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বড় একটি বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।