খানজাহান আলীর মাজারের দীঘির শেষ কুমিরটি খুলনায় স্থানান্তর
খুলনা ব্যুরো :
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলীর মাজার পুকুরের শেষ জীবিত কুমিরটিকে খুলনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় শতকের পুরোনো এই পুকুরের সঙ্গে কুমিরের সম্পর্কেরও কার্যত অবসান ঘটল।
৩ জুন বুধবার বিকালে কুমিরটিকে বাগেরহাট থেকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যার পর কুমিরটির ভবিষ্যৎ আবাসস্থল নির্ধারণ করা হবে। পরে উপযুক্ত কোনো স্বাদুপানির জলাশয়ে অবমুক্ত করা কিংবা অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বিষয়টি অত্র প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, কুমিরটি বর্তমানে পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছে। কয়েক দিন সেখানে রাখা হবে। এরপর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবিরও কুমিরটিকে খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তরের বিষয়টি বলেছেন ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৬ জুন ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক ট্রাস্ট থেকে আনা ছয়টি কুমির মাজার পুকুরে অবমুক্ত করা হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে একে একে সব কুমির মারা যায়। শেষ পর্যন্ত একটি কুমিরই জীবিত ছিল।
কুমিরটি স্থানান্তরের সময় বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ.জেড.এম. হাসানুর রহমানসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, করমজলের বিশেষজ্ঞ দল এবং স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় স্থানান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
গত ১ জুন মাজার পুকুরে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনার পর কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই দিন ফাতেমা আক্তার নামের এক শিশুকে কুমিরটি পানিতে টেনে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর ২ জুন বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় মাজার পুকুর থেকে কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।