চোরের দায়ে পুলিশ হেফাজতে অবলা গরু!
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সম্প্রতি অনলাইন জুয়ার নেশায় সর্বস্ব হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠ থেকে গরু চুরি করে হাটে বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে এক যুবক। তবে চোর জেলহাজতে গেলেও মামলার প্রধান আলামত হিসেবে এখনো পুলিশ হেফাজতে বন্দি রয়েছে একটি নিরীহ কালো রঙের এড়ে গরু।
ঘটনাটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর এলাকায়। জানা গেছে, গত ২১ মে দুপুরের পর দেবনগর গ্রাম থেকে গরুটি চুরি করে ব্রহ্মরাজপুর অস্থায়ী কুরবানির পশুর হাটে বিক্রি করা হয়। পরে হাট থেকে গরুটি পাশ করানোর সময় বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সন্দেহ হলে বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন।
আটক যুবক মো. রাজু হোসেন (পিতা: আদর আলী গাজী), গ্রামের বাড়ি বরজো পাটুরি, থানা কালীগঞ্জ, জেলা সাতক্ষীরা। পরে বাজার কর্তৃপক্ষ গরুসহ তাকে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করে।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেবনগর গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক আবুল কাশেম পুলিশ ফাঁড়িতে এসে গরুটিকে নিজের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হাবিবুর রহমানের সহযোগিতায় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তবে মামলার আলামত হিসেবে গরুটি এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ব্রিটিশ আমলের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার কারণে অবলা প্রাণীটির ঠাঁই হয়েছে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়িতে।
এদিকে পুলিশ সদস্যরা গরুটির যত্ন নিলেও স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই বলছেন, “চোরের অপরাধে একটি নিরীহ প্রাণী কেন বন্দি থাকবে?”
স্থানীয়দের মতে, ডিজিটাল জুয়ার ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। একদিকে সর্বস্ব হারিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে যুবসমাজ, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দরিদ্র ও নিরীহ মানুষ। এবার সেই নির্মম বাস্তবতার প্রতীক হয়ে উঠেছে একটি অবলা গরু।