মালয়েশিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের নারী অনূর্ধ্ব-২০ হকি দল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশের নারী হকির পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন লাল-সবুজের তরুণীরা। জুনিয়র নারী এশিয়া কাপ হকিতে শক্তিশালী মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নতুন এক অর্জনের গল্প লিখেছে বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-২০ হকি দল।
চীনের হুলুনবুয়ির শহরের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী হকি খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম দুই কোয়ার্টারে গোলের দেখা না পেলেও তৃতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমন।
এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মেয়েরা। চতুর্থ কোয়ার্টারে দারুণ এক ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন কণা আক্তার। ম্যাচের শেষ দিকে মালয়েশিয়া একটি গোল শোধ দিলেও বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয়ে জুনিয়র নারী এশিয়া কাপের মিশন পঞ্চম স্থান নিয়ে শেষ করে বাংলাদেশ। দুর্দান্ত নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ গোলের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমন।
বিশ্বকাপের স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে
এই টুর্নামেন্টে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে হলে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে উঠতে হতো। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরে সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়।
তবে বাংলাদেশের সামনে এখনো বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বছর ভারতে নারী হকি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলে এবং আয়োজক হিসেবে ভারত সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পেলে এশিয়া থেকে অতিরিক্ত একটি দল সুযোগ পাবে। বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী সেই সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
গ্রুপপর্বে ছিল বাংলাদেশের দাপট
জুনিয়র নারী এশিয়া কাপের চ্যালেঞ্জার পুলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। চার ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ হারিয়েছে চাইনিজ তাইপে, পাকিস্তান ও কাজাখস্তানকে। সবশেষ ম্যাচে হংকংকে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চার ম্যাচ থেকে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে দলটি।
হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত। নবম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমন।
এরপর ১৯ মিনিটে ফিল্ড গোল করেন আইরিন আক্তার রিয়া। ২৬ মিনিটে কণা আক্তারের গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। তৃতীয় কোয়ার্টারে মোসাম্মত লিমা ও আইরিন রিয়ার গোলে বাংলাদেশের স্কোর আরও বাড়ে।
৩১ মিনিটে লিমা এবং ৩৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আইরিন রিয়া। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে হংকংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৬-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন লিমা।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে লড়াকু ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছে বাংলাদেশের তরুণী হকি খেলোয়াড়রা। মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পঞ্চম স্থান অর্জন বাংলাদেশের নারী হকির জন্য নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে।
এই অনবদ্য সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন দলের খেলোয়াড়, কোচ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে।
এখন বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশের নারী অনূর্ধ্ব-২০ হকি দল। জুনিয়র এশিয়া কাপে তাদের এই পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জন্য আরও বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে।