সংবাদ শিরোনাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেওয়া প্রবীণের সংখ্যা: পারিবারিক অবহেলা, প্রবাস ও একাকীত্ব—শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমই ভরসা অনেকের

 প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন   |   রাজশাহী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেওয়া প্রবীণের সংখ্যা: পারিবারিক অবহেলা, প্রবাস ও একাকীত্ব—শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমই ভরসা অনেকের


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে পারিবারিক কাঠামো ও সামাজিক মূল্যবোধ। একসময় যাদের স্নেহ-ভালোবাসা, ত্যাগ ও পরিশ্রমে সন্তানরা বড় হয়ে ওঠে, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই বাবা-মায়ের অনেকেই এখন ঠাঁই নিচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতেও ধীরে ধীরে বাড়ছে এমন প্রবীণ মানুষের সংখ্যা, যা সামাজিকভাবে উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জেলার একটি অসহায় বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে প্রায় ১৯ থেকে ২০ জন প্রবীণ নারী ও পুরুষ বসবাস করছেন। তাদের অধিকাংশই পরিবারে অবহেলা, সন্তানের ব্যস্ততা কিংবা প্রবাসে থাকার কারণে এখানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। আবার কেউ কেউ দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা কাটাতে স্বেচ্ছায় এই আশ্রয়কেন্দ্রকে জীবনের শেষ সময়ের ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণ আব্দুল করিম, সামাদ ও শরিফুলসহ কয়েকজন জানান, জীবনের এই শেষ সময়ে পরিবারের কাছাকাছি থাকাটাই মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া। কিন্তু বাস্তবতার কারণে অনেক সময় সন্তানদের কাছ থেকে সেই সান্নিধ্য ও যত্ন পাওয়া যায় না। ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের এখানে থাকতে হচ্ছে। তাদের ভাষায়, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার সুবিধা থাকলেও পরিবারের ভালোবাসা ও আপনজনদের উপস্থিতির অভাব সবসময়ই অনুভূত হয়।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক নগরজীবন ও পরিবর্তিত জীবনধারার কারণে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে। তার জায়গায় একক পরিবারের বিস্তার ঘটছে। এর ফলে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তারা হয়ে পড়ছেন অবহেলিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি প্রবীণদের মানসিক সুস্থতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন মমিন বলেন,
“এখানে বসবাসরত বেশিরভাগ প্রবীণই জীবনের নানা প্রতিকূলতা ও পারিবারিক অবহেলার কারণে আমাদের কাছে এসেছেন। আমরা তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। তবে পরিবারের স্নেহ ও সময়ের ঘাটতি কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত প্রবীণদের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়া। পরিবারে তাদের সম্মান ও যত্ন নিশ্চিত করা গেলে অনেক প্রবীণই শেষ বয়সে একাকীত্বের এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতেন না। বাবা-মা কেবল পরিবারের সদস্য নন, তারা সন্তানের জীবনের প্রথম পথপ্রদর্শক এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।