সংবাদ শিরোনাম

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

 প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সুদৃঢ় করতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীকরণ, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর।
মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত পাঁচটি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে নতুন আইন হিসেবে পাস হয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসংক্রান্ত এসব আইনে দলীয় মনোনয়ন এবং জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বাতিল করা হয়েছে।
বৈঠকে নিরাপদ পানি সরবরাহ, পানি নিষ্কাশন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। সুশাসন ও নারী ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথাও তিনি জানান। নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান হাইকমিশনার।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দ্রুত নগরায়ণের কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।