সংবাদ শিরোনাম

সংযোগ নয়, গুণগত ও অর্থবহ কানেক্টিভিটিই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

 প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

সংযোগ নয়, গুণগত ও অর্থবহ কানেক্টিভিটিই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

মহানগন ডেক্স:
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, শুধু সংযোগ সম্প্রসারণ নয়, গুণগত, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
রোববার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (এপিটি)-এর ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭তম সভা (AWG-37)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন মোবাইল সাবস্ক্রিপশন রয়েছে। এর মধ্যে ১০৮ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক ৪জি সেবা ব্যবহার করছেন। দেশে বর্তমানে ৪৯ হাজারের বেশি ৪জি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, এখন শুধু সংযোগের পরিধি বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। সেবার গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা এবং অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং ৫জি-সহ ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এসব খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিনি বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির ওয়্যারলেস গ্রুপ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ ওয়্যারলেস প্রযুক্তির প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তিনি AWG-37-এর সফলতা কামনা করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা, সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং টেলিযোগাযোগ সেবা আরও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য শিল্পে ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতি, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এপিটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সভার মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত AWG-37 সভায় বেতার যোগাযোগ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, উদীয়মান প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা এবং আইনি সীমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
সভায় এসব বিষয়ে আঞ্চলিক সুপারিশ প্রণয়ন এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাংলাদেশে AWG-37 আয়োজন দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণকে আরও সুদৃঢ় করবে।