সংবাদ শিরোনাম

পাঁচ দিন বৃষ্টির আভাস, উত্তরের নদীতে বাড়ছে পানি: লঘুচাপের সম্ভাবনা, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের শঙ্কা

 প্রকাশ: ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

পাঁচ দিন বৃষ্টির আভাস, উত্তরের নদীতে বাড়ছে পানি: লঘুচাপের সম্ভাবনা, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েক দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচ দিন বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে উজানেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ইতোমধ্যে তিস্তা ও কুশিয়ারা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িকভাবে পানি ঢুকে পড়তে পারে।

সপ্তাহজুড়েই বৃষ্টির প্রবণতা

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগেরও কিছু এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণও হতে পারে।

রোববার বৃষ্টির পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের অনেক এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এরপর সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্তও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।

এ সময়ে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে এবং কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

উজানের বৃষ্টিতে নদীতে চাপ

শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়। একই দিনে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ১০৭, পটুয়াখালীতে ৯৪, বরগুনায় ৯১ এবং পাবনায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের উজানের মেঘালয় ও ত্রিপুরা এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব অঞ্চলের পানি নেমে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীতে প্রবাহ বাড়াতে পারে।

ছয় জেলায় সতর্কতার শঙ্কা

আগামী তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে। নদীর পানি বাড়লে এসব জেলার নদীতীরবর্তী নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা বা প্লাবন দেখা দিতে পারে।

তবে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় আগামী এক দিনে পানি কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে এসব নদীর পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

অন্যদিকে নওগাঁ ও নাটোরের কয়েকটি এলাকায় আত্রাই নদীর পানি আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

সিলেট অঞ্চলে বাড়ছে উদ্বেগ

সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় নদীর পানি পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি নজরদারির মধ্যে রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া সুরমা নদীর কানাইঘাট এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি, অমলশীদ ও শেওলা পয়েন্টে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

এ অবস্থায় আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীঘেঁষা কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

দুই পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে দুটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

শুক্রবার ৮৪টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পানি বেড়েছে। ৪১টি স্টেশনে পানি কমেছে এবং দুটি স্টেশনে পানির উচ্চতা অপরিবর্তিত ছিল।

উপকূলীয় নদীতেও জোয়ারের চাপ

আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বাড়তে পারে। তবে এই সময়ে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।

এদিকে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদ-নদীতে আগামী তিন দিন স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি জোয়ার হতে পারে। এতে নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকায় পানি ওঠার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

নদী ও নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement