প্রাথমিক-মাধ্যমিকের ১৩৩ পাঠ্যবইয়ে বড় পরিমার্জন, যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই
অনলাইন ডেস্ক:
আগামী
২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক
পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। শিক্ষার্থীদের
সময়োপযোগী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে মোট ১৩৩টি পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ
প্রায় শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন বই সংযোজনের উদ্যোগ
নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবি
সূত্র জানায়, বাংলা, ইতিহাস, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি
(আইসিটি)সহ বিভিন্ন বিষয়ের বইয়ে নতুন তথ্য ও বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো অনেক অধ্যায় ও পাঠ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
নতুন
সংযোজিত বইগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা
বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিটি বইয়ে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া
নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি প্রবন্ধ
সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের
‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ অধ্যায়ে বর্তমানে থাকা চার নেতার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি
জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন ও অবদানও যুক্ত করা
হচ্ছে।
এনসিটিবির
তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের ৩৬টি পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জনের কাজ শেষ পর্যায়ে
রয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের মোট ৯৯টি বইয়ের মধ্যে ৯৭টির সংশোধন ও পরিমার্জন
সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১৬০ জন এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায়
২৫০ জন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ অংশ নিয়েছেন।
আগামী
শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৩০ কোটি ৮৩ লাখের বেশি পাঠ্যবই মুদ্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর
মধ্যে প্রাথমিক স্তরের জন্য ছাপানো হবে ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি এবং
মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষার জন্য মুদ্রিত হবে ২১ কোটি ২৭ লাখ ২৮ হাজার
৩৩২ কপি বই।
পরিকল্পনা
অনুযায়ী, আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বই ছাপানোর কাজ শুরু হবে এবং নভেম্বরের
মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে
সারাদেশে বই বিতরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
এনসিটিবির
চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, এখন পর্যন্ত ১৩৩টি বইয়ের পরিমার্জন
ও ইনডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। নতুন সংযোজিত চারটি বইয়ের বিষয়বস্তু ও কাঠামো চূড়ান্ত
করার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি
জানান, চার শতাধিক বিষয়বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সম্পাদক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ পাঠ্যবই
প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন। একাধিক ধাপে পর্যালোচনার মাধ্যমে বইগুলো
প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্ভুল, মানসম্মত ও যুগোপযোগী পাঠ্যবই
সময়মতো হাতে পায়।