সংবাদ শিরোনাম

বাঙালির আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে হবে -- সংস্কৃতিমন্ত্রী

 প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

বাঙালির আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে হবে     -- সংস্কৃতিমন্ত্রী

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিশ্বমঞ্চে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, একটি জাতির আত্মপরিচয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো তার সংস্কৃতি। তাই দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও সংরক্ষণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কৃতিমন্ত্রীর কুমিল্লা সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কুমিল্লা মহানগর শাখা এবং জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অপসংস্কৃতির প্রভাব মোকাবিলায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি কুমিল্লার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা আরও জোরদার করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাবিনা আলমসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, জাসাসের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার পরিদর্শন

এর আগে একই দিনে সংস্কৃতিমন্ত্রী কুমিল্লার ঐতিহাসিক ময়নামতি জাদুঘরশালবন বিহার পরিদর্শন করেন। জাদুঘর প্রাঙ্গণে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে স্বাগত জানান।

পরিদর্শনের সময় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোছা. নাহিদ সুলতানা মন্ত্রীকে জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও সংরক্ষিত প্রত্নস্থল ঘুরে দেখান।

এ সময় তিনি সমতট অঞ্চলের প্রাচীন পাথর ও ব্রোঞ্জের মূর্তি, টেরাকোটার ফলক, প্রাচীন মুদ্রা, শিলালিপি এবং হাজার বছরের পুরোনো প্রত্ননিদর্শন পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি জাদুঘর চত্বরে সংরক্ষিত জীবাশ্ম বৃক্ষও ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, ময়নামতি জাদুঘর বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতার একটি অমূল্য সম্পদ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে দেশের গৌরবময় ঐতিহ্য তুলে ধরতে জাদুঘরের আধুনিকায়ন এবং প্রত্নসম্পদের বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

এ সময় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement