সুদের আশঙ্কা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা

 প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

সুদের আশঙ্কা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা

ডেক্স নিউজ: 

বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার মধ্যে আবারও চাপের মুখে পড়েছে স্বর্ণের বাজার। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সকাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩১৩.১১ ডলারে নেমে আসে। এর আগে শুক্রবার একদিনেই প্রায় ৩ শতাংশ দরপতন ঘটে, যা গত ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে আগস্ট সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৩৬.৩০ ডলারে দাঁড়ায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতিই স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করছে। পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলন বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন সম্প্রতি দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন হামলা এড়ানোর আহ্বান জানানো হলেও ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারেরও বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে আরও কঠোর সুদের নীতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা বর্তমানে ৭২ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ফেড কর্মকর্তাদের একজন বেথ হাম্যাক বলেন, সাম্প্রতিক কর্মসংস্থান তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রার ওপরে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সুদের হার বৃদ্ধির প্রয়োজন হতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.৫৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১,৭৬৭.১৫ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় স্থিতিশীল থেকে প্রতি আউন্স ১,২২৫.৬৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement