সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্বের সুযোগ নেই, জনগণ এখনো সবকিছু নজরে রাখছে: আখতার হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতার ‘বাহানা’ দেখিয়ে বিএনপি সরকার সংস্কার কার্যক্রম থেকে দূরে সরে যেতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশভাবে ভোগ করার মানসিকতা থেকে বড় দলটি এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি, যা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
রোববার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে যে দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলো পায়, সেটিকে ক্ষমতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রবণতা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার সময় যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখন ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, নোট অব ডিসেন্টের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্নমত নথিভুক্ত করা, কিন্তু মূল সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা নয়।
গণভোট প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত চারটি প্রশ্নের মধ্যে অধিকাংশ বিষয়ে বিএনপির আপত্তি না থাকলেও একটি অংশ নিয়ে তাদের অবস্থান অস্পষ্ট। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের সামনে যেসব সংস্কার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে কোন অংশে আপত্তি রয়েছে তা স্পষ্ট করা উচিত। তাঁর মতে, উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন কাঠামো এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে নিরপেক্ষতা—এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে।
বিএনপির পূর্ববর্তী অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক কৌশল হলেও জনগণের মতামতকে দীর্ঘমেয়াদে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, জনগণ এখন আর নিষ্ক্রিয় নয়; তারা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আখতার হোসেন সতর্ক করে বলেন, আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলো কতটা কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সংস্কার প্রস্তাব আনতে পারে, সেটিই জনগণ মূল্যায়ন করবে। তাঁর মতে, শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব নীতিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
কনভেনশনে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও দেশের জ্বালানি খাত, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং গণভোট ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।