জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা ও সংস্কার উদ্যোগ ঘিরে উদ্বেগ—কর্তৃত্ববাদী শাসনের ঝুঁকি বাড়তে পারে: দিলারা চৌধুরী
স্টাফ রিপোর্টার:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী সতর্ক করে বলেছেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হলে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে বাংলাদেশ আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ফিরে যেতে পারে। তার মতে, প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগত সংস্কার উপেক্ষিত হলে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং রাষ্ট্রে একধরনের অগণতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে।
রোববার সকালে ঢাকায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন।
দিলারা চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণের কারণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূল সেবা ও জবাবদিহিতার অবস্থান থেকে সরে গেছে। নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোকে ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন। এতে জনগণের আস্থা কমে গেছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেসব সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের পরিবর্তে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও সংস্কার উদ্যোগ বাতিল বা উপেক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার প্রস্তাব কার্যত থমকে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া যদি স্বাধীন কমিটির পরিবর্তে নির্বাহী নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, তবে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কাও তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে বিচার বিভাগ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিল বলে সমালোচনা রয়েছে।
তিনি সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাবের কথাও তুলে ধরেন, যেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং জ্যেষ্ঠ বিচারপতিরা থাকলে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে বলে মত দেন।
দিলারা চৌধুরীর মতে, শক্তিশালী সরকার প্রয়োজন হলেও তার ওপর কার্যকর ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ না থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা তৈরি হতে পারে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের প্রবণতাকেও তিনি গণতান্ত্রিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন।
শেষে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে সরকারকে চাপের মধ্যে রাখা জরুরি, যাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও পূর্ববর্তী সংস্কার অধ্যাদেশগুলো পুনর্বহাল করা হয়। তা না হলে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।