বিএনপি সুবিধাজনক অধ্যাদেশকে আইন করেছে, জবাবদিহিতার বিধানগুলো বাতিল করেছে—এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

বিএনপি সুবিধাজনক অধ্যাদেশকে আইন করেছে, জবাবদিহিতার বিধানগুলো বাতিল করেছে—এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ

ডেক্স নিউজ:

রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যেসব অধ্যাদেশ রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক বলে বিএনপি মনে করেছে, সেগুলো দ্রুত আইনে রূপান্তর করা হয়েছে; অথচ রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধানকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা বা বাতিল করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আইন সংশোধনের ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা বা তদন্ত ছাড়াই অপসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তার মতে, এতে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সহজেই সরিয়ে প্রশাসক বসানোর পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

আব্দুল হান্নান মাসউদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে যেসব অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল, সরকার সেগুলোকে আইনে রূপান্তর না করে কার্যত বাতিল করে দিয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, ক্ষমতাকেন্দ্রিক সুবিধা নিশ্চিত করে এমন বিধানগুলো বহাল রাখা হলেও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকারী উদ্যোগগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। বক্তারা দাবি করেন, চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ক্রমেই অনাগ্রহী হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করাই রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি মত দেন, কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার ঘাটতি থাকলেও জনগণের অংশগ্রহণ ও গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে কনভেনশনের বক্তৃতাগুলোতে বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া, আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে গভীর মতপার্থক্য ও সমালোচনা উঠে আসে, যা দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement