চাঁদাবাজদের ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ ধর্তব্য নয়, কঠোর অবস্থানে ডিএমপি
নিজস্ব প্রতিবেদক |
‘চাঁদাবাজ তো চাঁদাবাজই। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই।’ রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা দিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, পরিচয় বা প্রভাব কোনো কিছুই অপরাধীকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না।
আজ রোববার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
৪৮ ঘণ্টায়ই সাফল্য: আটক ১৫২
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র প্রদর্শন ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় ডিএমপি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে। কমিশনার জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত এবং ৯৪ জন তালিকা বহির্ভূত চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির খাতা, ভিডিও ক্লিপসহ নানা তথ্য-প্রমাণ জব্দ করা হয়েছে। একইসাথে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযানেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে।
প্রযুক্তি ও নজরদারিতে অপরাধীদের ‘পালানোর পথ বন্ধ’
অপরাধীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তি-নির্ভর। কমিশনার সরওয়ার বলেন, “আমরা ডিবির সাদা পোশাকের সদস্য, সাইবার মনিটরিং টিম এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে অপরাধীদের প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখছি। সন্দেহভাজনদের তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই করে বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
নতুন কৌশল ও জনসম্পৃক্ততা
রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপি কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন: বসিলা ও কারওয়ান বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন করে পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অপরাধপ্রবণ এলাকাতেও এই কার্যক্রম বিস্তৃত হবে।
সিসিটিভি নেটওয়ার্ক: মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বাজার ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।
সামাজিক প্রতিরোধ: শুধু আইন প্রয়োগ নয়, অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। কমিউনিটি পুলিশিং, মাইকিং ও প্রচারপত্র বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জনগণের নিরাপত্তায় সর্বদা জাগ্রত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।”
কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য নিকটস্থ থানা বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে ডিএমপি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম ও ডিসি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এস এন নাসিরুল ইসলাম।