মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে নতুন গতি: জেটি ও টার্মিনাল নির্মাণে শুরু হলো পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো গড়ার কাজ
স্টাফ রিপোর্টার:
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও চুক্তি স্বাক্ষরের এক বছর পর অবশেষে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—জেটি ও টার্মিনাল নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রবিবার (৩ মে) থেকে প্রকল্পের প্যাকেজ-১-এর আওতায় এই নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রায় ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকার এই অংশ বাস্তবায়ন করছে জাপানের শীর্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পেন্টা-ওশান ও টোয়া কর্পোরেশন।
প্রকল্পের আওতায় বিশালাকার বিশেষায়িত ড্রেজার ব্যবহার করে ২৫ কোটি ঘনফুটেরও বেশি মাটি ও বালি উত্তোলন করা হবে, যা দিয়ে প্রকল্প এলাকার ভূমি উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রস্তুত করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য একটি অংশ সংরক্ষণ করা হবে।
মহেশখালীর প্রায় ১ হাজার ৩০ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই গভীর সমুদ্রবন্দর দেশের বাণিজ্য অবকাঠামোতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের এই ধাপে ৪৬০ মিটার দীর্ঘ কন্টেনার জেটি এবং ৩০০ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস জেটি নির্মাণ করা হবে, যা আগামী চার বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, সবকিছু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোলে ২০২৯ সালে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে এবং ২০৩০ সাল থেকে বন্দরটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হবে। তখন প্রাথমিকভাবে বছরে প্রায় ১১ লাখ এবং পরবর্তী ধাপে ২০৪১ সালের মধ্যে ২৬ লাখ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা অর্জন করবে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।