জ্বালানি নীতিতে প্রভাব বিস্তার ও আমলাতন্ত্রের স্বার্থসংশ্লিষ্টতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ
ডেক্স নিউজ:
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনের একটি সেমিনারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দেশের জ্বালানি খাত, নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া এবং আমলাতন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুতর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের একটি অংশ বিভিন্ন কর্পোরেট স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে বিশেষ করে এলএনজি, হেভি ফুয়েল অয়েল (এইচএফও) এবং ডিজেল আমদানিনির্ভর নীতির ক্ষেত্রে কিছু আমলা ব্যক্তিগত বা কর্পোরেট স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সরকারের ওপর নীতিগত চাপ সৃষ্টি করছেন। তাঁর মতে, এসব সিদ্ধান্ত অনেক সময় দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হয়ে উঠছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, অবসর-পরবর্তী সময়ে অনেক আমলার সংশ্লিষ্ট খাতের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা দেখা যায়, যা নীতিনির্ধারণের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তাঁর বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় নীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জ্বালানি খাতে কাঠামোগত দুর্বলতা আরও বাড়বে।
তিনি দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শিল্প ও বাণিজ্য খাতের সম্প্রসারণে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নিয়মিত লোডশেডিং, আমদানি-নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি বছর ক্ষতির মুখে পড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও প্রভাবিত করছে।
বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হলেও বাংলাদেশে গত এক দশকে এই খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ফলে দেশটি এখনো উচ্চমাত্রায় আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, যা বৈশ্বিক সংকট বা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ঝুঁকি বাড়ায়।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, বিশেষ করে বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং পুলিশ সংস্কারের বিষয়টি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় নীতিনির্ধারণে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাঁর মতে, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা কঠিন হবে।
সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন, নবায়নযোগ্য উৎসে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ করা অপরিহার্য।