ওয়াশিংটনে গ্লোবাল সামিটে ডা. জুবাইদা রহমানের ভাষণ, শিশু উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর

 প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ওয়াশিংটনে গ্লোবাল সামিটে ডা. জুবাইদা রহমানের ভাষণ, শিশু উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর

ডেক্স নিউজ:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন, ডি.সি.-তে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন “Fostering the Future Together: Global Coalition Summit”-এ অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।

২৪–২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এ উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশ নেন। শিশুদের সার্বিক কল্যাণ, শিক্ষা ও সম্ভাবনা উন্নয়নে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই প্ল্যাটফর্মটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি। উদ্বোধনী অধিবেশনের ওয়ার্কিং সেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে ওঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের শিক্ষা, যত্ন ও মূল্যবোধের ওপর।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে পরিবারকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি শিশুদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে ডা. রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এডটেক শিক্ষাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। এ লক্ষ্যে সরকার শিক্ষকদের জন্য ট্যাবলেট সরবরাহ, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম প্রবর্তন এবং মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাংলাদেশের পূর্ববর্তী সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, নারীর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকার স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে একটি সহনশীল, দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন ডা. রহমান ও তার প্রতিনিধিদল। সেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান।

বুধবার (২৫ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ডা. জুবাইদা রহমানের।

সমাপনী বক্তব্যে তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।