স্বাধীনতার ইতিহাস সংরক্ষণ করেই গড়ে উঠবে সচেতন আগামী প্রজন্ম-- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

 প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

স্বাধীনতার ইতিহাস সংরক্ষণ করেই গড়ে উঠবে সচেতন আগামী প্রজন্ম-- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ১০ চৈত্র (২৪ মার্চ): 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক জাতি গড়ে উঠে। ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতি নয়, এটি জাতির পরিচয়, চেতনা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে হলে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রচার অপরিহার্য।

আজ চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সম্মেলন কক্ষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা নেতা যিনি কেবল জন্মগ্রহণ করেননি, বরং ইতিহাস সৃষ্টি করে জাতির চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাহসী নেতৃত্ব প্রদান করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন, যা মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’এর ধারণা প্রবর্তন করেন, যা দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতিকে একসূত্রে গেঁথে জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি বিপ্লব, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণমূলক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং বলেন, অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি সকল অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মফিদুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও জাদুঘরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।