সংবাদ শিরোনাম

দ্বিতীয় ধাপে ৮ জেলায় ই–বেইলবন্ড উদ্বোধন করলেন আইন উপদেষ্টা

 প্রকাশ: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

দ্বিতীয় ধাপে ৮ জেলায় ই–বেইলবন্ড উদ্বোধন করলেন আইন উপদেষ্টা

ঢাকা, ৭ মাঘ (২১ জানুয়ারি):

বিচার ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ধাপে একযোগে ৮টি জেলায় 

ই–বেইলবন্ড সেবা উদ্বোধন করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

আজ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি তিনি এ সেবার উদ্বোধন করেন।

মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর জেলায় আজ এ সেবা চালু করা হয়েছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ই–বেইলবন্ড সেবা চালু করা হয়। নারায়ণগঞ্জে এর কার্যক্রম সফলভাবে চলমান থাকায় নতুন করে আরও ৮টি জেলায় এ সেবা সম্প্রসারণ করা হলো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধাপে ধাপে দেশের ৬৪টি জেলায় ই–বেইলবন্ড সেবা চালু করা হবে। ই–বেইলবন্ড চালুর ফলে একজন বন্দিকে খুব দ্রুত মুক্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিলের মাধ্যমে এক ঘণ্টার মধ্যেই একজন আসামিকে মুক্তি দেওয়া যাচ্ছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আগে জামিন পেতে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হতো, এতে সময় ও অর্থ ব্যয় হতো এবং ভোগান্তি বাড়ত। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত সময় লাগত। অনলাইনে এ প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় কে, কখন স্বাক্ষর করলেন-তার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে এ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার সুযোগ থাকবে না।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় সফলভাবে চালুর পর আরও ৮টি জেলায় এ সেবা চালু হওয়ায় এখন এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের হাতে আরও কিছু সময় রয়েছে, এ সময়ের মধ্যেই আমরা আরও কয়েকটি জেলায় এ সেবা চালু করার চেষ্টা করব। আমরা আশা করছি আগামী ছয় মাসের মধ্যেই দেশের সব ৬৪টি জেলায় ই–বেইলবন্ড চালু হবে।

পরবর্তী সরকার ই–বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালু রাখবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি অত্যাবশ্যক (Essential) সেবা। পরবর্তী যে সরকারই আসুক, তারা এ ব্যবস্থায় বাধা দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি না।

বিচার ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে প্রচলিত বেইলবন্ড দাখিল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে ই–বেইলবন্ড প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ যুগান্তকারী পদক্ষেপ বিচারপ্রার্থী, কারা প্রশাসন ও আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ে সহায়ক হবে বলে উপদেষ্টা মত প্রকাশ করেন। 

ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানের সচিবালয় প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস. এম. এরশাদুল আলম ও মো. খাদেম উল কায়েস, যুগ্ম সচিব রুহুল আমীন ও এম. এ. আউয়ালসহ আইন ও বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অপর প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, সংশ্লিষ্ট ৮টি জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইনজীবী, পুলিশ এবং কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।