সংবাদ শিরোনাম

নারীর প্রতি সহিংসতা মানবাধিকারের লঙ্ঘন - উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ

 প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

নারীর প্রতি সহিংসতা মানবাধিকারের লঙ্ঘন   - উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ

ঢাকা, ১১ অগ্রহায়ণ (২৬ নভেম্বর):

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। তিনি বলেন, নারী ও কন্যা শিশুর ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে নারী বিদ্বেষী প্রচারণাকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

উপদেষ্টা আজ ঢাকায় গুলশানস্থ লেকশোর গ্রান্ডে বিশ্বব্যাপী জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা বিরোধী ১৬ দিনের ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে এসব কথা বলেন।

শারমীন এস মুরশিদ বলেন, নারীদের শিক্ষা, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সত্ত্বেও দেশে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা এখনো চলমান। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে স্বৈরাচারী মনোভাব থাকায় সমাজে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিসংখ্যান লক্ষণীয়। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী মনোভাব দূর করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন মুক্ত বাংলাদেশ পরিবর্তন তখনই সম্ভব যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা ও সম্মানের পরিবেশ নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের পাশাপাশি সামাজিক সম্মিলিত প্রয়াসই সহিংসতার অবসানের ভূমিকা রাখতে পারে।

উপদেষ্টা বলেন, নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা ঘটলে মন্ত্রণালয় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিকটিমের কাছে পৌঁছে যাবে। মন্ত্রণালয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সেবাদানের লক্ষ্যে কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল স্পেসেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। কারণ, সেখানেও সহিংসতা ব্যাপক। তরুণ-তরুণী উভয়ের মধ্যেই একটি পশ্চাৎপদতার ন্যারেটিভ তৈরি হচ্ছে- এটি ভেঙে নতুন সচেতনতা, সমতা ও সম্মানের ন্যারেটিভ গড়ে তুলতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের নারীরা কোথাও আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক নিরাপদ অনুভব করছেন না। পরিবারের মধ্যেও অনেক সময় নারীরা অনিরাপদ বোধ করছেন। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সমষ্টিগত পদক্ষেপ ও শক্তিশালী অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

ইউএন উইমেন, বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং বলেন, আমাদের অবশ্যই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে বিনিয়োগ করতে হবে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলতে থাকা সামাজিকীকরণের ধরণ ও নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। আমরা যেসব উদাহরণ নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করি, সেগুলোই তাদের জেন্ডার, সম্মান এবং মানবাধিকার সম্পর্কে চিন্তাভাবনাকে গঠন করে।