পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
পিরোজপুর, ৩ অগ্রহায়ণ (১৮ নভেম্বর):
পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে আজ পিরোজপুরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তারুণ্যনির্ভর নতুন বাংলাদেশ গঠনে ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিৎ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মুছা খান, পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য অফিসার আবদুল্লাহ আল মাসুদসহ পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০২৪ এর জুলাই শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এই আলোচনা সভায় বক্তাগণ শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারকারী হিসেবে না থেকে প্রযুক্তির উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য তরুণদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, তরুণদের লক্ষ্য হওয়া উচিত অপরের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের ইতিবাচক শক্তিকে জাগ্রত করার মানসিকতা গড়ে তোলা। বাংলাদেশের অগ্রগতির পথ সুগম করতে হলে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত থেকে দূরে থেকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তারা মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও সমস্যার উন্নয়ন নিয়ে কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে দেশ ও পৃথিবী বদলানোর কাজ শুরু করতে হবে। অন্যের জন্য কোনো কাজ ফেলে রাখলে কোনো কাজই এগোবে না। নিজেকেই অগ্রণী হতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে নেতিবাচকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, নেতিবাচকতা ও অন্যের ওপর দোষারোপ কোনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না।
সভাপতির বক্তব্যে তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিৎ চৌধুরী বলেন, তারুণ্যের মধ্যে যে আবেগ, প্রবল উৎসাহ ও পরিবর্তনের সংকল্প বিদ্যমান তাকে একত্রিত করে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ধৈর্য, পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা ও আশাবাদের সংমিশ্রণ। তিনি বলেন, তারুণ্যের শক্তিই পারে বাংলাদেশের অগ্রগতির গতিপথকে সঠিক দিকে চালিত করতে। দেশের জনসংখ্যার এই সিহংভাগ জনগোষ্ঠীর কর্মস্পৃহা আর মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পারলে বাংলাদেশ কখনো পথ হারাবে না। এ লক্ষ্যে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বৈশ্বিক সমাজ ও সভ্যতা সম্পর্কে জ্ঞান চর্চায় নিমগ্ন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপপরিচালক বলেন, নিজের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন থাকলে চারপাশের বাস্তবতায় তা ধরা দিতে বাধ্য।