কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

 প্রকাশ: ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৩২৫ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের রেকর্ড গড়েছে এবারের সংক্রমণ।

দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট রোববার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইবোলায় আক্রান্তের নিশ্চিত সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৯৪৫ জন হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১০১ জন।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, এটি এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব। ভাইরাসটি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই দ্রুততা, ব্যাপকতা ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি সতর্ক করেন।

ডিআর কঙ্গোয় এটি ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে এটি জুলাইয়ের শেষ দিকেই দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছিল। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, মৃতের সংখ্যা ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবে মারা যাওয়া ২ হাজার ২৯৯ জনকে ছাড়িয়ে গেছে।

ফ্লেচার বলেন, ডিআর কঙ্গোয় ইবোলা এখন পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। ভাইরাসের বিস্তারের গতি যেন প্রতিরোধ কার্যক্রমকে ছাড়িয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পশ্চিম আফ্রিকার রেকর্ড নিয়েও শঙ্কা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান গতিতে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে এবারের প্রাদুর্ভাব ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ওই মহামারিতে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। সেই সংকটের পর ইবোলার টিকা তৈরির প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়।

ডিআর কঙ্গোর এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের প্রজাতি হলো বান্দিবুজিও। এই প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।

গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামো, দুর্গম অঞ্চল এবং দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও রুয়ান্ডার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় চলমান সংঘাত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলেছে।

আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই মারা যাচ্ছেন

সরকারি হিসাবে, নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার বা কেস ফ্যাটালিটি রেশিও জুনের শুরুতে প্রায় ২০ শতাংশ ছিল। এখন তা বেড়ে ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত প্রায় প্রতি দুজনের একজন মারা যাচ্ছেন।

ডিআর কঙ্গোয় মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের বা এমএসএফের হয়ে কাজ করা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থমাস পারিশ বলেন, সাধারণত কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্তদের শনাক্তকরণ ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসরণ কার্যক্রম উন্নত হওয়ায় মৃত্যুর হার কমে আসার কথা।

কিন্তু এবার তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক রোগীকে খুব দেরিতে শনাক্ত করা হচ্ছে, যখন চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এমনকি অনেকে কমিউনিটিতে মারা যাওয়ার পর তাদের সংক্রমণের বিষয়টি শনাক্ত হচ্ছে।

ইবোলার বিরুদ্ধে পরীক্ষামূলক কয়েকটি টিকা ও চিকিৎসাপদ্ধতি বর্তমানে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান কিছু চিকিৎসা ইবোলার বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে কি না, তা নিয়ে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রমাণ সীমিত এবং মূলত প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণার মধ্যেই রয়েছে।

সূত্র:আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement