ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় বাংলাদেশের, সান মারিনোকে ২-১ গোলে পরাজিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক:
আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে পরাজিত করে স্মরণীয় এ সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশ।
ম্যাচের নায়ক ছিলেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। দুই অর্ধে একটি করে গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। উভয় গোলই আসে তার নিখুঁত হেড থেকে। দ্বিতীয়ার্ধে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া মাঠ ছাড়ার পর তপুই নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন।
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খেলায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ। ১৯তম মিনিটে হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক থেকে শেখ মোরসালিনের বাড়ানো বলে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। তবে ৩৩তম মিনিটে স্বাগতিকরা সমতায় ফেরে। সান মারিনোর আক্রমণভাগের এক প্রচেষ্টা বাংলাদেশের রক্ষণভাগ অতিক্রম করলে নিকোলাসের শটে গোল হয়।
প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। কোচ থমাস ডুলি সামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়রকে মাঠে নামালে দলের গতি ও আক্রমণের ধার বৃদ্ধি পায়। কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ সৃষ্টি হলেও সেগুলো থেকে গোল আসেনি।
ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আসে নির্ধারক মুহূর্ত। হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক থেকে বিশ্বনাথ ঘোষের নেওয়া বলের ধারাবাহিকতায় তপু বর্মণের স্পর্শে বল জালে জড়ায়। এই গোলই বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
অতিরিক্ত সময়ে সান মারিনো সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক মিতুল মারমার দৃঢ়তায় তা সফল হয়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।
ইতালির অভ্যন্তরে অবস্থিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সান মারিনোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। তাদের উৎসাহ ও সমর্থনে স্টেডিয়ামে ছিল ঘরের মাঠের আবহ।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয় পায়নি। ফলে সান মারিনোর বিপক্ষে এই জয় দেশের ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।