জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জন্য সমন্বিত কৌশলপত্র কেসিসিতে

 প্রকাশ: ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন   |   খুলনা

জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জন্য সমন্বিত কৌশলপত্র কেসিসিতে

মাসুদ আল হাসান, খুলনা :

খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুত মানুষের ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত কৌশলপত্র খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার ১২ আগষ্ট দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর কাছে কৌশলপত্রটি হস্তান্তর করেন কারিতাস-খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ।

কেসিসির সহযোগিতায় ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন (ডিআরআর অ্যান্ড সিসিএ)’ প্রকল্পের আওতায় কারিতাস-খুলনা অঞ্চল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

‘খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু-জনিত অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতি ব্যবস্থাপনার কৌশল’ শীর্ষক কৌশলপত্রটি খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইডিএম) ও কারিতাস বাংলাদেশ যৌথভাবে এটি প্রণয়ন করেছে।

কৌশলপত্র প্রণয়নে সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। জীবিকার তাগিদে এসব মানুষ নগর ও নগরসংলগ্ন এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কেসিসির পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে কৌশলপত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সেবা প্রদান ও সম্পদ বরাদ্দ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডেটাবেস তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কৌশলপত্রটি কেসিসির ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা, সেবা প্রদান, সমন্বয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী নিয়ে নীতি ও উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও টেকসই নগর উন্নয়নের কাঠামো তৈরিতেও এটি সহায়ক হবে।

কৌশলপত্র প্রণয়নের বিভিন্ন ধাপ ও অংশীজনদের পরামর্শ নেওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরেন কুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন। কেসিসির পরিকল্পনা কাঠামোর সঙ্গে কৌশলপত্রটির উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির-উল-জব্বার।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এবং কারিতাস-খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ।

ইউনিসেফ, এডামস, এডিবি, ওয়ার্ল্ড ভিশন, নবলোক, জেজেএস, ব্র্যাক, রূপান্তর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, উত্তরণ ও সুশীলনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, কেসিসির ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement