আদালতে ট্রলার চালকের স্বীকারোক্তি --- ১৪ লাখ টাকা পাওনার দ্বন্দ্বে ব্যবসায়ীকে খুন

 প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন   |   খুলনা

আদালতে ট্রলার চালকের স্বীকারোক্তি ---  ১৪ লাখ টাকা পাওনার দ্বন্দ্বে ব্যবসায়ীকে খুন

খুলনা ব্যুরো :

যশোরের অভয়নগর উপজেলার এক কাঠ ব্যবসায়ীকে পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত ট্রলার চালক দ্বীন ইসলাম শেখকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত মোঃ শফিকুল ইসলাম অভয়নগর উপজেলার পোতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের ছেলে। ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট রাতে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে ইট দিয়ে ভারী করে ভৈরব নদীর মাঝখানে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে লাশ ভেসে না ওঠে।

২৬ আগস্ট লবণচরা থানাধীন পুটিমারী কাজীবাছা নদী থেকে নৌপুলিশ একটি বস্তাবন্দি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি পচে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি খুলনা পিবিআই তদন্ত শুরু করলে হত্যার নেপথ্যের তথ্য বেরিয়ে আসে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রেজোয়ান জানান, কাঠ ব্যবসার ১৪ লাখ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করেই শফিকুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ট্রলার চালক দ্বীন ইসলামকে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়।

পিবিআই জানায়, হত্যার পর দ্বীন ইসলাম আত্মগোপনে ছিল এবং বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল। উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় গত ২১ এপ্রিল বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার শেরে-ই-বাংলা রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার তাকে খুলনার সিনিয়র মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement