চাঁপাইনবাবগঞ্জে শতবর্ষী মায়ের জমি দখলের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন

রাজশাহী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শতবর্ষী মায়ের জমি দখলের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে ছবি-সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা মাঝপাড়া গ্রামে জরাজীর্ণ একটি ঘরে চরম ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন শতবর্ষী রহিমা খাতুন মনোয়ারা রেফুল। টিনের চালার ফুটো ও দেয়ালে ফাটল ধরা পৈতৃক বসতবাড়ি থেকে তাঁকে বের করে দেওয়ার হুমকি এবং সম্পদ লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিজের ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. মুখতারুজ্জামান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত।

প্রতিকার চেয়ে নিজের বুয়েট কর্মকর্তা ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ওই শতবর্ষী মা।

মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমি-সংক্রান্ত মামলার অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন কাগজে শতবর্ষী রহিমা খাতুন ও তাঁর প্রয়াত স্বামীর টিপসই নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিবার জানতে পারে, প্রতারণা করে তাঁদের সম্পত্তির বড় একটি অংশ নিজের নামে লিখে নিয়েছেন অভিযুক্ত ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রয়াত এসলাম হোসেনের রেখে যাওয়া ধান ও আমের জমি এবং বসতভিটাসহ প্রায় ১২ বিঘা সম্পত্তি নিয়ে পরিবারটিতে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য সন্তানদের বঞ্চিত করে এসব সম্পত্তি এককভাবে লিখে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মুখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে দিনমজুর ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে পৈতৃক বাড়িতেই অবস্থান করছেন শতবর্ষী রহিমা খাতুন। সেখান থেকেও তাঁদের উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় থানা ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, সালিশে লিখে নেওয়া সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও অভিযুক্ত মুখতারুজ্জামান তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক কমল জানান, স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মুখতারুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একটি মোবাইল নম্বরে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তাঁর ব্যবহৃত নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। জীবনের শেষ মুহূর্তে কোনো বিরোধ না চেয়ে নিজের পৈতৃক বাড়িতে নিরাপদে শান্তিতে থাকার আকুতি জানিয়েছেন শতবর্ষী ওই মা।