কামালপুরে সমবায় সমিতির আমানতের অর্থ ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন

 প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ন   |   রাজশাহী

কামালপুরে সমবায় সমিতির আমানতের অর্থ ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি :

 উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের কড়িতলা বাজার এলাকায় পরিচালিত একটি সমবায় সমিতির আমানতের অর্থ ফেরত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে কড়িতলা সমিতির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রায় শতাধিক আমানতকারী অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, “সুর্য্যের আলো সমবায় সমিতি” নামে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহের পর বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন আমানতকারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে কাশাহার গ্রামের ফরিদ উদ্দিন ও সোহেল রানা যৌথভাবে সমবায় সমিতিটি প্রতিষ্ঠা করেন। কড়িতলা বাজারে একটি কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হতো। পাশাপাশি সভাপতির নিজ বাড়িও অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

অভিযোগ রয়েছে, অধিক মুনাফার আশায় আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সমিতিতে অর্থ জমা রাখেন। শুরুতে গ্রাহকদের নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করা হলেও গত বছর থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আমানতকারীরা জমাকৃত অর্থ ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা করা হয়। একপর্যায়ে গত বছরের ১৪ আগস্ট থেকে সমিতির কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় একশ’ গ্রাহকের সঞ্চিত সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার মতো অর্থ বর্তমানে আটকে রয়েছে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আমানতের অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হেলেনা বেগম, খোদেজা খাতুন, মুর্শিদা বেগম, সুলতান মাহমুদ, জহুরুল ইসলাম, শারমিন আক্তারসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীরা।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার বলেন, তাঁর স্বামী একসময় সমিতিটির কর্মচারী ছিলেন। সেই আস্থার জায়গা থেকে তারা প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা মেয়াদি আমানত হিসেবে জমা রেখেছিলেন। বর্তমানে সেই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে তাদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement