চাষিদের নাভিশ্বাস: আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে খরচের চেয়েও কম দামে বিক্রি
মোঃআশরাফুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
দেশের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার বাম্পার ফলন হলেও চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন আম চাষিরা। উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার পরও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে বাগান মালিক ও কৃষকদের।
স্থানীয় আম চাষিরা জানান, প্রায় এক দশক আগে প্রতি মণ আম উৎপাদনে খরচ হতো মাত্র ৩০০ টাকার মতো। কিন্তু বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। অথচ বাজারে প্রতি মণ আম বিক্রি হচ্ছে একই দামে, কোথাও কোথাও আরও কমে। ফলে প্রতি মণে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
তবে লোকসানের মধ্যেও নিরাপদ ও কেমিক্যালমুক্ত আম উৎপাদনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছেন চাষিরা। তারা জানান, সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ফল পৌঁছে দিতে কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০টাকায় আম বিক্রি করছেন তারা।
চাষিদের অভিযোগ, প্রচুর ফলন হলেও সংরক্ষণ সুবিধার অভাব এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। দ্রুত সরকারি উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে অনেকেই আম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াসিন আলী জানান, জেলায় এবার ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আম পেকে যাওয়ায় বাজারে সাময়িক মূল্যহ্রাস দেখা দিয়েছে। তবে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চাষিদের দাবি, সরকারি উদ্যোগে আধুনিক হিমাগার ও আম সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি এবং আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন করা হলে এ সংকট অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি সার ও কৃষি উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখারও আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয় উদ্যোক্তারা মনে করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রাখতে রপ্তানি সম্প্রসারণ, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।