চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম বাড়ছে, হাসপাতালে বেড সংকট—ঝুঁকিতে শিশু স্বাস্থ্য

 প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন   |   রাজশাহী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম বাড়ছে, হাসপাতালে বেড সংকট—ঝুঁকিতে শিশু স্বাস্থ্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হাম  উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জেলার হাসপাতালগুলোতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের বেডের অভাবে মেঝে ও সিঁড়িতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

গত তিন মাসে জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, আক্রান্তদের বেশিরভাগই ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু, যাদের অনেকেই এখনো পূর্ণ টিকাদানের আওতায় আসেনি।


জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বেড সংকট চরমে পৌঁছেছে। শিশু রোগীদের অনেককেই মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও সিঁড়ির ধাপেও রোগী রাখা হয়েছে। এতে সংক্রমণ আরও বিস্তারের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বেড ও সেবার অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এক অভিভাবক জানান, তার শিশুর জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বেড না পেয়ে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক এবং দ্রুত ছড়ায়। এর প্রধান উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া এবং মুখে ঘা। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জটিলতা বাড়তে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুস সামাদ জানান, রোগীর চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসক সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং সন্ধ্যা ও রাতের শিফট চালু করা হয়েছে।

অন্যদিকে সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এসেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে জেলায় হাম আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময় জেলার পাঁচটি উপজেলায় দেড় লাখের বেশি শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত শনাক্তকরণে বিলম্ব—এই তিনটি কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তারা নজরদারি বৃদ্ধি, শক্তিশালী আইসোলেশন ব্যবস্থা এবং গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান, শিশুর জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।


Advertisement
Advertisement
Advertisement