শিবগঞ্জে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অধ্যক্ষকে প্রাণ নাশের হুমকীর প্রতিবাদে অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলন

 প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন   |   রাজশাহী

শিবগঞ্জে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অধ্যক্ষকে প্রাণ নাশের হুমকীর প্রতিবাদে অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলন

 মোঃ জালাল উদ্দীন রাজশাহী ব্যুরোঃ

অধ্যক্ষের কাছে দাবী কৃত চাঁদা না পেয়ে তেলকুপি কলমদর আলিম মাদ্রাসার অফিসে ঢুকে দাপ্তরিক কাজে বাধা প্রদান,কর্মচারীদের লাঞ্ছিত, অধ্যক্ষের কক্ষে তালা মারা ও অধ্যক্ষকে প্রাণনাশের হুমকীর প্রতিবাদে স্থানীয় ইফতাখার আলম বাবু তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অত্র মাদ্রাাসার অধ্যক্ষ মো: আব্দুর রহিম ও তার সহযোগিরা।

শুক্রবার ১ মে শাহাবাজপুর ইউনিয়নের আজমতপুর বাবু বাজারে  এক সম্মেলনে তেলকুপি কলমদর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর  রহিম তার লিখিতে বক্তব্যে বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারী সরকারী বিধি মোতাবেক ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীর শুন্য ৪টি পদে বৈধভাবে নিয়োগ দানের পর থেকে  শাহাবাজপুর ্ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতাখার আলম বাবু ও সহযোগীরা বিভিন্ন অজুহাতে মাদ্রাসার বিভিন্ন কাজে ব্যাহত করা চেষ্টা করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় ইফতাখার আলম বাবু তার সহযোগিরা  গত  ১৬ এপ্রিল দাখিল পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে নাামিয়ে অনুষ্ঠানের কাজ বন্ধ করে দেন এবং আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন এবং আমার কক্ষে আমাকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।


এ ঘটনায় আমি গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রী:তারিখে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবার একটি অভিযোগ করায় তার আমাকে প্রাণ নাশের হুমকী দেয়ায় আমি মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে পারছিনা। শুধু তাই নয় গত ২৬ ্এপ্রিল ২০২৬ খ্রী: তারিখে  কম্পিউটার অপারেটর মোসা: জুলেখা খাতুন, অফিস সহকারী  কাম কম্পিউটার অপারেটর মোসা: মাকসুরা খাতুন, নৈশ প্রহরী  সুলতান আলম ও নিরাপত্তা কর্মী মোমিনুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির জন্য কম্পিউটারে কাজ করার সময় ইফতাখার আলম বাবু  মাদক ব্যবসায়ী বাইরুল ইসলাম ও  বেনজির আহমেদ সহ তাদের দলবল অফিস কক্ষে প্রবেশ করে তার কাজ বন্ধ করে দেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করে অফিস কক্ষে তালা বদ্ধ করে  মব সৃষ্টি করে।

এঘটনায় ওই চারজন যৌথভাবে  মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন। তিনি আরো বলেন এ ঘটনায় বিচার চেযে গত  ২৬ এপ্রিল ২০২৬  খ্রী: তারিখে  আমি লিখিত অভিযোগ করলে থানার অফিসার ইনচার্জ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। তিনি আরো জানান ইফতাখার আলম বাবু ও তার সহযোগিরা অত্যন্ত দূর্দান্ত ও প্রভাবশালী হওয়া এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ  তাদের সাথে মোকাবিলা করতে না পারায় আমরা আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। তবে সংবাদ সম্মেলনে ইফতাখার আলম,তার বিরুদ্ধে আনীত  সমস্ত অভিযোগ  অস্বীকার করে বলেন আমি কোনদিনই কোন রাজনৈতিক দলের কোন পদে ছিলাম না। আমি কোন মব সৃষ্টি করেনি। মাদ্রাসার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে  অধ্যক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে  এলাকার লোকজনের সাথে প্রতিবাদ করেছি। তাতে বিএনপি সমর্থিত বিভিন্ন পদে থাকা,শরিফ উদ্দিন,আজাদ ও বেনজির সাইফুদ্দিন,বাইরুল ইসলাম সহ অনেকেই আছেন্। সেহেতু দলীয় জের আসতে পারে না। আমরা আইনী ভাবে লড়াই করতে চাই।

এদিকে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তার বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ কর্তৃক  আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে  মো: হুমায়ুন কবির বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে অবশ্যই সময় সাপেক্ষে  আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শিবগঞ্জ উপজলা নির্বাহী অফিসার মো: মাজহারুল  ইসলাম বলেন, আমি কোন পক্ষকেই দোষারোপ না করে উভয়পক্ষকে আইনী সমাধানের পরামর্শ দিয়েছি। সংবাদ সম্মেলন আরো উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার বাংলার প্রভাষক কিসওয়ার জাহান খাতুন, প্রভাষক শরিফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মাওলানা ইসমাইল হোসেন অফিস সহকারী জুলেখা  খাতুন,মাকসুরা খাতুন,ইউপি সদস্য কাসেদ আলিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement