চাটমোহরে রাজনৈতিক দলের মদদে রাতের আঁধারে ফসলী জমি কেটে সয়লাব
মোঃআশরাফুল ইসলাম (পাবনা) প্রতিনিধিঃ
পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাতের আঁধারে ফসলী জমির মাটি কেটে সয়লাব করা হচ্ছে। ফলে হুমকিতে প্রকৃতি এবং ফসলী জমি। অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদে এবং প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই অপকর্ম করা হচ্ছে। প্রশাসন মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করলেও থামছেনা এই যজ্ঞ।
এদিকে, মাটি বিক্রিকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ। ফসলী জমির মাটি (টপ সয়েল) রাতেই চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়।
সরেজমিন উপজেলার হান্ডিয়াল,নিমাইচড়া,ছাইকোলা,পার্শ্বডাঙ্গা,ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন বিল ও মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সারারাত ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। সেই মাটি ট্রাম ট্রাক, ট্রলি,ট্রাক্টরে করে রাতেই বিভিন্ন ইটভাটায় পাঠানো হচ্ছে। রাতের বেলা বীরদর্পে বিকট শব্দ করে মাটিভর্তি যানবাহন চাটমোহরসহ আশপাশের ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতি ট্রাক ১ হাজার টাকা এবং প্রতি ট্রলি ৫’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিমাইচড়া ইউনিয়নের সমাজ গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে প্রতি রাতেই আমাদের গ্রামসহ আশপাশের গ্রাম থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে অন্যত্র। ভেকুর ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাদের জানায়, অনুমতি নিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে।
হান্ডিয়াল পাকপাড়া গ্রামের সুরুজ আলী জানান, আমাদের ইউনিয়নের অনেক জায়গায় পুকুর এবং ফসলী জমি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এই কাজের সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা জড়িত।
ছাইকোলা ইউনিয়নের দীঘলগ্রামের আব্দুর রহিম জানান, সারাদিন ভেকু বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত ফসলী জমির মাটি কেটে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি ঘন্টা ২ হাজার টাকা চুক্তিতে ভেকু মালিক মাটি কেটে দিচ্ছে। তিনি জানান, তারা বিভিন্ন অফিস ম্যানেজ করেই এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
চাটমোহর কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ফসলীর টপ সয়েল জমির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওই মাটির কারণেই ফসল ভালমন্দ হয়। ফসলী জমি কেটে ফেললে এই অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন অনেক কমে যাবে বলেও জানান তিনি।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, অচিরেই রাতে অবৈধভাবে ফসলী জমি থেকে মাটি কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।