ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত বোরো বীজতলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে টানা এক সপ্তাহের ঘন কুয়াশা ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই চারাগাছ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকের কষ্টে তৈরি বোরো চারা সাদা ও হলদেটে হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৪৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ২ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়। তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এসব বীজতলার একটি বড় অংশ এখন ঝুঁকির মুখে।
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে অনেক বীজতলার চারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সদর উপজেলার আমনুরা এলাকার কৃষক সরিফুল ইসলাম বলেন, পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা ও দামি ওষুধ ব্যবহার করেও চারার কোনো উন্নতি হচ্ছে না। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইসলামপুর ইউনিয়নের কৃষক সালাম ।
কৃষকদের আশঙ্কা, বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে বাইরে থেকে চড়া দামে চারা কিনতে হবে, যা বোরো আবাদে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেবে। শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক নাদিম জানান, কুয়াশা ও শিশিরের কারণে চারার গোড়া পচে যাচ্ছে। দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে বড় সংকট তৈরি হবে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে চারাগাছে কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকি বেড়েছে। তিনি কৃষকদের সন্ধ্যায় পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা, অতিরিক্ত পানি অপসারণ এবং সকালে সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের পর আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।