প্রতিশোধ নয়, ইতিবাচক মানসিকতায় ভবিষ্যৎ নির্মাণে আহ্বান তারেক রহমানের

 প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

প্রতিশোধ নয়, ইতিবাচক মানসিকতায় ভবিষ্যৎ নির্মাণে আহ্বান তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ক্ষতি বা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিলেই তা ফেরত পাওয়া যায় না; বরং ভবিষ্যৎ নির্মাণে মনোযোগ দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, “আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে—এটি সত্য। কিন্তু প্রতিশোধ নিলে কি সেই ক্ষতি ফেরত আসবে? হবে না। তাই আমাদের উচিত প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের জন্য, সমাজের জন্য এবং মানুষের জন্য কাজ করা।” তিনি আরও যোগ করেন, সফলতা বা ব্যর্থতা পরের বিষয় হলেও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

সভায় তিনি বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় দেশে সংবাদপত্রের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি। আজ অসংখ্য সাংবাদিকের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমিয়ে রাখা যায় না। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু গণতন্ত্রের শক্তি আবারও ফিরে এসেছে।

ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দমন-পীড়নের কথাও তিনি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা রক্ষা পেয়েছেন। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান তরুণ প্রজন্মের মাদকাসক্তি প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ও সক্ষমতার মধ্যে শুধুমাত্র গ্রেপ্তার বা চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে, যাতে তারা মাদক থেকে দূরে থাকে।

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা তার বক্তব্যে আশাবাদী মনোভাব খুঁজে পান। তারা মনে করেন, প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

এই বক্তব্যে তারেক রহমান মূলত একটি বার্তা দিয়েছেন—অতীতের ক্ষত ভুলে গিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণে মনোযোগী হওয়া। দেশের তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা তার অঙ্গীকারের অংশ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement