এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ল, স্বস্তিতে হাজারো শিক্ষার্থী
বিশেষ প্রতিনিধি: চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য এক বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে যারা ফরম পূরণ করতে পারেননি, তাদের জন্য এটি শেষ সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৬ জুন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণ করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ‘সোনালী সেবার’ মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধের সর্বশেষ তারিখও আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণত ফরম পূরণের মূল সময়সীমা শেষ হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীই বিভিন্ন ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা আর্থিক সমস্যার কারণে বাদ পড়ে যান। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং জটিলতা কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে গিয়ে বিলম্ব হতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই মানবিক দিক বিবেচনা করেই শিক্ষাবোর্ড এই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের এই বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের যাবতীয় কাজ বাধ্যতামূলকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদের পর আর কোনো অবস্থাতেই সময় বাড়ানো হবে না এবং সোনালী সেবার গেটওয়েও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
শিক্ষাবোর্ডের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশের কলেজগুলোতে এক ধরনের ব্যস্ততা ও প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই দুই দিনের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জোরালো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব শিক্ষার্থী ফরম পূরণ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন, তাদের মুখে এখন কিছুটা হলেও স্বস্তির হাসি ফুটেছে। তবে সীমিত সময়ের কারণে এবার আর কোনো ঢিলেমি না করে দ্রুত ফি জমা দিয়ে প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।