ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ: যমুনা সেতুতে ঢাকামুখী যানবাহনের ঢল, অতিরিক্ত ভাড়ার ক্ষোভ
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল :
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ আর স্বজনদের সঙ্গে কাটানো মধুর স্মৃতি বুকে নিয়ে নাড়ির টান ছিঁড়ে আবারো ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ছুটির মহাসমাপ্তিতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষ একযোগে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ঢাকামুখী যানবাহনের তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই মহাসড়কের যমুনা সেতু এলাকা থেকে শুরু করে আশেকপুর বাইপাস পর্যন্ত বিস্তীর্ণ পথজুড়ে যানবাহনের চাকা ঘুরছে নিরন্তর, যেখানে চিরচেনা সেই চঞ্চলতা আর ব্যস্ততার প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট। বিশেষ করে এলেঙ্গা ও আশেকপুর বাইপাস এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় আজ সকালের চশমায় ধরা দিয়েছে এক ভিন্ন আবহে। তবে প্রতি বছরের মতো এবারো চিরচেনা উৎসব-পরবর্তী ভোগান্তি হিসেবে হাজির হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়ার নৈরাজ্য। অনেক পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ পর্যন্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, বাসের জানালার ফাঁক দিয়ে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকা ক্লান্ত চোখগুলো যান্ত্রিক শহরের দিকে এগিয়ে চলেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, চাকার গতি ধীর হলেও এখন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের এই প্রবেশদ্বারে কোনো দীর্ঘস্থায়ী বা স্থবির যানজটের সৃষ্টি হয়নি। আশেকপুর বাইপাস এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষমাণ বেসরকারি চাকরিজীবী সোহেল রানা জানান, মহাসড়কে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও তৎপরতা থাকার কারণে গাড়ি থামছে না, যাত্রা মোটামুটি নির্বিঘ্নই বলা চলে। কিন্তু উৎসবের সুযোগ নিয়ে পকেট কাটার যে উৎসব শুরু হয়েছে, তা কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে, পেটের দায়ে এবং সময়মতো কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার তাগিদে সাধারণ মানুষ বাড়তি টাকা গুনেই গাড়িতে উঠছেন।
এদিকে চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গণপরিবহনের চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা আগের চেয়ে কয়েক গুণ বাড়লেও ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল থাকায় কোথাও গাড়ি আটকে থাকছে না। তারা আশা প্রকাশ করছেন, প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি বজায় থাকলে এবারের ফিরতি যাত্রা কোনো বড় ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই শেষ হবে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি তারা সরাসরি অস্বীকার করে দাবি করেন, ঢাকা থেকে খালি গাড়ি নিয়ে আসার কারণে কিছুটা সমন্বয় করতে হচ্ছে, একে 'অতিরিক্ত' বলা চলে না।
আসন্ন দিনগুলোতে এই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ তৈরি পোশাক কারখানা ও অন্যান্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি খুলে গেলে মানুষের স্রোত জনসমুদ্রে রূপ নেবে। মহাসড়কে এই সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে, যানজট নিরসন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে। টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, মহাসড়কের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা কৃত্রিম জটলার সৃষ্টি হতে না পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কাউন্টার ও পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।