৩৪ জেলায় দাবদাহের অস্বস্তি, চাতক পাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষায় দেশবাসী

 প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

৩৪ জেলায় দাবদাহের অস্বস্তি, চাতক পাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষায় দেশবাসী

অনলাইন ডেস্ক:

​জেষ্ঠ্যের চিরাচরিত তাপদাহে পুড়ছে রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ভ্যাপসা গরম আর সূর্যের তীব্র উত্তাপে জনজীবন ওষ্ঠাগত। সকালের সূর্য ওঠার পর থেকেই তপ্ত রোদের চড়া আঁচ জানান দিচ্ছে প্রকৃতির বৈরী রূপ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের ৩৪টি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আধুনিক সাংবাদিকতার ধারায় যদি এই পরিস্থিতিকে বিশ্লেষণ করা যায়, তবে এটি কেবল কোনো আবহাওয়ার পরিসংখ্যান নয়; বরং এটি দেশের কোটি মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ, কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ আর একটু শীতল পরশের জন্য প্রকৃতির কাছে আকুল প্রার্থনার এক বাস্তব চিত্র।

​সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার চিত্র তুলে ধরে অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পটুয়াখালী জেলাসহ রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে এই তাপদাহ চলছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। এর অর্থ হলো, দিনের বেলার কাঠফাটা রোদের পর রাতেও মিলবে না স্বস্তির বাতাস। ইট-পাথরের নগরী ঢাকা যেন পরিণত হয়েছে এক তপ্ত চুল্লিতে, যেখানে রাতের বেলাতেও গরম বাতাস আর ভ্যাপসা অনুভূতি মানুষের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর এবং হকারদের জন্য এই আবহাওয়া এক চরম পরীক্ষা। জীবিকার তাগিদে তপ্ত পিচঢালা রাস্তায় নামতে হলেও দুপুরের দিকে রোদের তীব্রতায় অনেকেই থমকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। গাছপালার ছায়ায় কিংবা ফুটপাতের শরবতের দোকানে একটু স্বস্তির খোঁজে ভিড় জমাচ্ছেন ক্লান্ত পথচারীরা।

​তবে এই মরুময় পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে মেঘের আনাগোনা এবং বৃষ্টির পূর্বাভাস কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, একটি পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত অবস্থান করছে। এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের প্রভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের পাহাড়ি ও চা বাগান ঘেরা এলাকাগুলোতে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দেশের বাকি অংশ, যেখানে তাপদাহের দাপট সবচেয়ে বেশি, সেখানে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই বৈশ্বিক প্রভাবে এখন ঋতুচক্রের আচরণ অনেকটাই অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। বর্ষার আগমনের ঠিক আগের এই সময়ে এমন দীর্ঘস্থায়ী তাপদাহ কেবল মানুষের শারীরিক অসুস্থতা, যেমন—হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন বা ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে না, বরং ব্যাহত করছে কৃষি উৎপাদনকেও। বৃষ্টির অভাবে মাঠের ফসল শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, যার ফলে সেচ পাম্পগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে বহুগুণ। একদিকে বৃষ্টির জন্য হাহাকার, অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক বর্ষণের পূর্বাভাস—প্রকৃতির এই দ্বিমুখী আচরণ আধুনিক নাগরিক জীবন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আপাতত বৃষ্টির এক পশলা শীতল জলের অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে দেশের কোটি তৃষ্ণার্ত চোখ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement