আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্য: গতি আনবে নারী উদ্যোক্তারা
প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের ক্রমবর্ধমান দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে সরকার। গুঁড়ো দুধের বিশাল আমদানির ধকল সামলে দেশের টাকা দেশেই রাখতে এবং ভবিষ্যতে বিদেশে দুগ্ধ পণ্য রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকার ডেইরি খাতের পরিধি বাড়াতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সাথে এই খাতের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নারী খামারি ও উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
সোমবার (১ জুন) রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানান। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত এবারের দুগ্ধ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, নারীরা শক্তিশালী হলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী হবে। বর্তমান সমাজে দুগ্ধ খামারসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি চিত্র তৈরি করেছে। তবে এই অংশগ্রহণকে শুধু প্রশংসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। খামারিদের প্রকৃত প্রয়োজন ও মাঠপর্যায়ের সংকট বিবেচনা করে সরকারি সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যখন সফল হন, তখন তার সুফল পুরো দেশের অর্থনীতি ভোগ করে। তাই 'করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'—এই জাতীয় প্রত্যয়কে হৃদয়ে ধারণ করে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও খামারিদের অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন, তবে দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা অসম্ভব কিছু নয়।
এর আগে বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে প্রতিমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে মাদ্রাসার সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর দুধ বিতরণ করেন। কোমলমতি শিশুদের মাঝে দুধ পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং পুষ্টি সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর একটি বর্ণাঢ্য ও সুসজ্জিত র্যালি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ খামারবাড়ি মোড় প্রদক্ষিণ করে কেআইবি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র্যালিতে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিজ্ঞানী, ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক খামারি ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।
বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের অনুষ্ঠানমালা শেষে দুপুরের দিকে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) কারওয়ান বাজারস্থ প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনে যান। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই আকস্মিক পরিদর্শনের সময় তিনি কর্পোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরের দাপ্তরিক কার্যক্রম, ফাইল প্রক্রিয়াকরণ এবং সেবামূলক কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বিএফডিসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় তিনি সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সবাইকে আরও আন্তরিক ও গতিশীল হওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেন।